History

চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদী বিধৌত মতলব উত্তর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র ছেংগারচর পৌরসভার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেংগারচর সরকারি কলেজটি অবস্থিত। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পূর্বে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা এবং চাঁদপুর গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে পড়াশুনা করতে হতো। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পরে এই অঞ্চলের কৃতি সন্তানগণ এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই ফলশ্রুতিতে ১৯৭৩ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান ছিলো তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রকৌশলী লোকমান আহমেদ, প্রকৌশলী সোলায়মান আহমেদ, আব্দুর রশিদ ভূঁইয়াা, আব্দুল মতিন, আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, মোঃ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোঃ আমান উল্লাহ, গোলাম মর্তুজা খান এবং আলহাজ্ব ওয়ালী উল্লাহ দর্জি। তাদের সঙ্গে যারা সহযোগিতার উদার হস্ত সম্প্রসারিত করেছিলেন তারা হলেন, মিয়াজ উদ্দিন সরকার, অলিউল্যাহ সরকার, মোঃ মজিবুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম ডিলার, মোঃ রফিকুল ইসলাম,বাদশা মিয়া মেম্বার, জাহাঙ্গীর মোঃ আদেল, ডাক্তার নুরুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক এবং আব্দুল ওহাব দর্জি। তাছাড়া এলাকার সাধারণ জনগণ, তরুণ সমাজ, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কলেজটিকে সামনের দিকে এগিয়ে  নেয়ার জন্য নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। ২০১৮ সালে কলেজটি ছেংগারচর সরকারি কলেজ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। 

শিক্ষা কার্যক্রম : বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির কার্যক্রম চালু রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি ও বিভাগে প্রায় ১৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা এবং স্নাতক সম্মান পর্যায়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে শিক্ষাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কলেজে বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, অর্থনীতি, ইসলামিক স্টাডিজ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, যুক্তিবিদ্যা, পৌরনীতি ও সুশাসন, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা, পরিসংখ্যান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন, ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বীমা বিষয়সমূহে ৩৭জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। কলেজে বিজ্ঞান বিষয়সমূহে প্রদর্শক ও  ক্রীড়া শিক্ষক কর্মরত আছেন।

অবকাঠামো : কলেজে ছয়টি ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরিচালনার জন্য ৩৪টি শ্রেণীকক্ষ রয়েছে। প্রশাসনিক ভবন, অনার্স ভবন, মানবিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা, ডিগ্রি ভবনের সুবিন্যন্ত পরিসরে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একজন অভিজ্ঞ লাইব্রেরীয়ানের তত্ত্বাবধানে কলেজের পাঠাগার পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতও কৃষিশিক্ষা বিষয়ের জন্য স্বতন্ত্র গবেষণগার/ ব্যবহারিক শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। কলেজের খেলার মাঠটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা আয়োজনের সুযোগ রয়েছে।

সহ-শিক্ষা কার্যক্রম : কলেজের শিক্ষার্থীদের  মানসিক গঠনের জন্য সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য কমনরুমে ইনডোর গেমস এর ব্যবস্থা রয়েছে। কলেজে রোভার স্কাউটিং ও বিএনসিসি এর কার্যক্রম চালু আছে।

কলেজের শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং ও তত্ত্বাবধানের জন্য গাইড শিক্ষকের ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্লাস/রিমেডিয়াল সেশন পরিচালনা করা হয়। কলেজে শৃংখলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য শৃংখলা রক্ষা কমিটি সক্রিয় রয়েছে। সার্বিক পরিবেশ ও একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় এই কলেজ একাধিকবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।